Latest Blog Post

মাহমুদুর রহমান এর ভারতবিরোধীটা

মাহমুদুর রহমান যখন থাবাবাবার চটি, জাতীয় পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন সেটা বিরাট ব্লান্ডার করেছিলেন। থাবাবাবারা বাংলাদেশে ইসলামের কেশ্রাগ্র স্পর্শ করতে পারে নাই নবী যৌনজীবন নিয়ে চটি লিখে। 
তবে শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি নিয়ে তিনি যে শিরোনাম করেছিলেন সেটা এখন মানতেই হবে। 
শাহবাগের সরকারবিরোধী স্পিরিটকে যারা মেরেছে তারা আজো ইনিয়ে বিনিয়ে সরকারের ফ্যাসিবাদীতায় তাল মিলিয়ে যাচ্ছে। 

মাহমুদুর রহমানরা এখনো পলিটিক্যাল ইসলামকে বাঙ্গালী মুসলমানের আইডেন্টিটি মনে করেন। পোস্ট ৯/১১ এর যুগে, আইসিসের যুগ, আত্মঘাতী হামলার যুগে, সারা দুনিয়া মুসলমানঘৃণার যুগে বসে, ভারতের কোলের ভিতরে বসে পলেটিক্যাল ইসলামকে উস্কায় দেয়ার রাজনীতি করা, জামাতের সাথে নির্বাচনী জোটের রাজনীতি করাটা বড়ো পলেটিক্যাল ব্লান্ডার। 

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা বাংলাদেশের চেয়ে খুব বেশী উন্নত না। তারা যে ভারত বিরোধী রাজনীতি পুষবে সেই শক্তি আর তাদের নাই। তেলের দাম কমে যাওয়ার কারনে সৌদি আরবের সালাফী ডকট্রিনের বিষাক্ত স্রোত আর আগের মতো বইছে না। 

দুনিয়ার সব রাজনীতিই আর্থিক লাভক্ষতির সাথে রিলেটেড। তাই ইসলামকেন্দ্রিক ভারতবিরোধী রাজনীতির পালে আর হাওয়া লাগছে না। এই কারনেই বিএনপি রাজনীতি স্থবির।  
আদর্শের জন্য রাজনীতি করে কোন শালা? 
রাজনীতি মানুষ করে ক্ষমতা আর টাকার জন্য। 

ভারতীয় অর্থনীতি এখন দুনিয়ার ৫-৬ নাম্বার অর্থনীতি। এছাড়াও ১৯৭১ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের ধীরে ধীরে ভারতীয় বলয়ে চলে আসছে। টাকা কথা বলে।  
ভারতের কোলের ভিতর লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশ ভারতকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার একটা টাইম বম্ব। যদি বাংলাদেশ ভারতমুখীতা বাদ দিয়ে নিজস্ব ব্রান্ডের অসাম্প্রদায়িক, উন্নত টেকনোলজির, সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে পারে সেটা ভারতের ছোট ছোট নিজস্ব কালচার ভিত্তিক সমাজের জন্য হুমকি স্বরুপ হবে। তারা ভাবতে বসবে যদি বাংলাদেশ পারে তাহলে আমরা পারি না কেন?
ভারতীয় সাম্রাজবাদ, ভারতের অখন্ডতার জন্য অনুগত আর দরিদ্র বাংলাদেশ দরকার। এইকারনে বাংলাদেশে নির্বাচন বিহীন তল্পীবাহক আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে ভারত। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পরিমান লুটপাট আর দুর্নীতি আর অন্যায় অত্যাচারকে প্রশ্রয় দেয় ভারত। ভারতীয় ক্ষমতাসীনদের আকাঙ্ক্ষা আর বাংলাদেশের সাধারন মানুষের আকাঙ্ক্ষা তাই সম্পূর্ন বিপরীত। 

আপনি যদি ভারতীয় মুভি ইন্ডাষ্ট্রি ফলো করেন কিংবা তাদের মিডিয়া, তারা ভারতীয় অখন্ডতার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের সর্বোচ্চ ঘৃণার চোখে দেখে। তারা যদি বেলুচস্তানে সন্ত্রাসী/স্বাধীনতকামীদের অস্ত্র সাপ্লাই করে সেটাও তারা দেশপ্রেমের খাতিরে করেছে ভাবে, তারা যখন বাংলাদেশ শান্তিবাহিনীদের মদদ দেয় সেটা তারা দেশপ্রেমের খাতিরে করেছে বলে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে ভারতীয় সন্ত্রাসী/স্বাধীণতাকামীদের সাহায্যের জন্য সেটাকে তারা কেয়ামতের আলামত বলে বিবেচনা করে। 

সংগত কারনের যারা ভারত বিরোধী যারা ভারতীয় অখন্ডতার হুমকি স্বরুপ যারা বাংলাদেশে ভারতীয় কলোনিয়ালিজমের হুমকি স্বরুপ। তাদের নিশ্চিন্থ করে দেয়া হবে। বিএনপি যে সম্প্রতি ভারতের করুণা ভিক্ষা করে ক্ষমতায় আসতে চাইছে সেটা ভারতীয় জয়ের চিন্থ আসলে। 
[আমি বিএনপির ভারতের কাছে নতজানু হতে থাকা পলেসি সমর্থন করি। বাংলাদেশকে উন্নত করতে হবে ভারতের সাথে প্রভুভৃত্যের মতো আচরন না হৌক, বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক থাকা উচিত। ] 
বাংলাদেশে কোন ভারত বিরোধী রাজনীতি সহ্য করা হবে না। 
কিছু ভারত বিরোধী কন্ট্রোলড এলিমেন্ট থাকতে পারে, যেটা ভারতীয় কলোনিয়ালিজমকে আসলে শক্তিশালি করবে। 
কিন্তু রেডিক্যাল কোন এলিমেন্ট সহ্য করা হবে না। 

মাহমুহুদুর রহমান চরম ভাবে ভারতবিরোধী একজন সাংবাদিক রাজনীতিবিদ। যদি পড়ে না থাকেন তাহলে তার রিসেন্ট কলামটা পড়ে দেখেন। উনি হায়দ্রাবাদ কিভাবে ভারত দখল করলো, কিভাবে সিকিমকে লেন্দুপ দর্জি ভারতের হাতে তুলে দিলো, কিভাবে কাশ্মীরকে স্বাধীনতা বঞ্চিত করে রাখা হলো সেসব নিয়ে লিখেছেন। 
বাংলাদেশের পরিনতি অনেকেটা এই তিনটা উদাহরনের মতোই। তবে সরাসরি নয়। বাংলার মানুষ দিল্লীর বশে ছিলো সব সময়ই। 
এইকারনে সরাসরি শাসন চলছে না।  
ভারতীয় কলোনিয়ালিজমটা আসলে যতোটা কোন লাভের আশায় তারচে বড়ো হলো অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। উপমহাদেশে একমাত্র বাংলাদেশ আর ভূটান ছাড়া ভারতের তাবেদার অন্য কোন রাষ্ট্র নাই। নেপাল দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বলয়ের বাইরে। শ্রীলংকা আর মালয়েশিয়াও সম্প্রতি চীনের মদদে ভারতীয় আধিপত্যবাদীতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। 
বাংলাদেশকে হারানো উপমহাদেশে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদীতার পক্ষে কোন মূল্যের সম্ভব না। 

__

মাহমুহুদুর রহমান ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে প্রেডিকশন করেছিলেন সেটা ঠিক করেছিলেন। আবার সাম্প্রদায়িক সংকটজনক যে পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন চটি ছেপে সেটা ছিলো নির্বুদ্ধিতা আর হটকরিতা। 
বর্তমান পৃথিবীতে পলিটিক্যাল ইসলামের অবস্থা খুবই নাজুক। 
সৌদি আরব, ইসরায়েল, আমেরিকা এই হোলি ট্রিনিটি মুসলমানদের ক্ষমতা পাবার বিপক্ষে। 
ইরান নিজেই নিজের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানির মধ্যে। তাছাড়া ইরানের শিয়া মতবাদের কট্টর বিরোধী বাংলাদেশের মুসলমানরা। 
সৌদি আরবের রাজাদের পায়ে নিচে মাথা বর্গা দিবে তবু শিয়াদের সাথে বন্ধুত্ব করবে না। 
পলিটিক্যাল ইসলাম বেচে তাই কোন লাভ হবে না, কেউ আসবে না বাচাতে। যদি না টাকা আর ক্ষমতার সাপোর্ট থাকে। 

মাহমুদুদুর রহমান বরঞ্চ প্রগতিশীলতার দিক থেকে যদি ভারতীয় আধিপাত্যবাদের বিরুদ্ধে লিখতেন। ইসলামী গন্ধ মুছে বরং চীন আর পশ্চিমাদের সাহায্য চাইতেন। সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্ত না করে তাদেরকে ইসলামিক এনলাইট্মেন্ট তথা ইংরেজি শিক্ষা, টেকনোলজি শিক্ষা, জ্ঞান বিজ্ঞানের গুরুত্বের দিকে হাটতেন, তখন তিনি মার খেলেও ১৫-২০ বছর পর বাংলাদেশের একটা নিজস্ব চিন্তা করতে সক্ষম আর ভারতীয় কলোনিয়ালিজম বিরোধী একটা শক্তি উন্মেষ ঘটতো। 

কট্টরভারতবিরোধী মাহমুদুর রহমানের মার খাওয়াটা তাই ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্ণ স্বাভাবিক একটা ঘটনা।